নামজারি কিভাবে চেক করতে হয়? ই-নামজারি চেক
নামজারি কিভাবে চেক করতে হয়? এটি জমির মালিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, কারণ নামজারি (Mutation) সম্পন্ন না হলে জমির আইনি মালিকানা নিশ্চিত হয় না।
ডিজিটাল ভূমিসেবা চালু হওয়ার পর এখন ভূমি অফিসে না গিয়েও ঘরে বসে খুব সহজে আপনার নামজারির আবেদন বা অনুমোদনের অবস্থা যাচাই করা সম্ভব।
এই প্রবন্ধে আমরা আপনাকে দেখাবো, অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে কিভাবে মাত্র কয়েকটি ধাপে আপনার নামজারির সর্বশেষ স্ট্যাটাস দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে যাচাই করে নিতে পারবেন।
নামজারি চেক করার পদ্ধতি: ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ নির্দেশিকা
নামজারি চেক করার জন্য সাধারণত তিনটি প্রধান পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়: অনলাইন আবেদন স্থিতি যাচাই, খতিয়ান যাচাই এবং ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের মাধ্যমে যাচাই।
১. অনলাইন নামজারি আবেদনের স্থিতি যাচাই (Mutation Status Check)
যদি আপনি সম্প্রতি নামজারির জন্য আবেদন করে থাকেন, তবে এই ধাপের মাধ্যমে আপনি আপনার আবেদনের বর্তমান অবস্থা জানতে পারবেন।
ধাপ ১: ভূমি মন্ত্রণালয়ের পোর্টালে প্রবেশ
প্রথমে আপনাকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে যেতে হবে। বর্তমানে নামজারি আবেদনের স্থিতি যাচাইয়ের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পোর্টাল হলো ‘ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-নামজারি সিস্টেম’ বা সংশ্লিষ্ট জেলার ভূমি অফিস ওয়েবসাইট।
ধাপ ২: ‘আবেদনের স্থিতি’ বিভাগ নির্বাচন
ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পর, আপনাকে ‘আবেদন ট্র্যাকিং’ বা ‘আবেদনের বর্তমান অবস্থা’ অথবা ‘নামজারি আবেদন স্থিতি’ (Mutation Application Status) নামক মেনুতে ক্লিক করতে হবে।
ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান
এই ধাপে আপনাকে আপনার আবেদনের সময় প্রাপ্ত তথ্যগুলো প্রদান করতে হবে। সাধারণত নিম্নোক্ত তথ্যগুলো চাওয়া হয়:
আবেদন আইডি বা নামজারি কেস নম্বর: এটি আপনার আবেদনের সময় প্রাপ্ত রসিদ/প্রিন্ট কপিতে উল্লেখ থাকে।
জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর (NID): আবেদনকারীর এনআইডি নম্বর।
মোবাইল নম্বর: আবেদনের সময় ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর।
নিরাপত্তা কোড (Captcha): স্ক্রিনে প্রদর্শিত কোডটি লিখতে হবে।
ধাপ ৪: স্থিতি দেখুন
সকল তথ্য সঠিকভাবে প্রবেশ করানোর পর ‘খোঁজ করুন’ বা ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করুন।
ফলাফল:
স্ক্রিনে আপনার আবেদনের বর্তমান অবস্থা প্রদর্শিত হবে। যেমন:
আবেদন দাখিল: আবেদন সফলভাবে জমা হয়েছে।
শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ: শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে বা হবে।
ফিল্ড ভিজিট: ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) কর্তৃক তদন্তাধীন।
খারিজ: আবেদন বাতিল হয়েছে (কারণ উল্লেখ থাকবে)।
অনুমোদিত/খতিয়ান প্রস্তুত: নামজারি সম্পন্ন হয়েছে এবং খতিয়ান প্রস্তুত।
যদি ‘অনুমোদিত/খতিয়ান প্রস্তুত’ দেখানো হয়, তবে আপনার নামজারি সফল হয়েছে।
২. নামজারি চূড়ান্ত হওয়ার পর খতিয়ান যাচাই (Record of Rights Check)
নামজারি সম্পন্ন হওয়ার পর আপনার নাম সরকারি খতিয়ানে সঠিকভাবে উঠেছে কি না, তা যাচাই করার জন্য এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এটিই হলো নামজারি চেকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
ধাপ ১: ‘ভূমি তথ্য সেবা’ বা ‘আরএস খতিয়ান’ পোর্টালে প্রবেশ
আপনাকে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা সংশ্লিষ্ট জেলার খতিয়ান অনুসন্ধান পোর্টালে যেতে হবে।
সাধারণত: “eporcha.gov.bd“ অথবা ভূমি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট পোর্টালে এই সেবা পাওয়া যায়।
ধাপ ২: ‘খতিয়ান অনুসন্ধান’ নির্বাচন
ওয়েবসাইটের মেনু থেকে ‘খতিয়ান অনুসন্ধান’ বা ‘আরএস খতিয়ান’ অপশনটি নির্বাচন করুন।
ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় তথ্যের মাধ্যমে অনুসন্ধান
আপনার কাঙ্ক্ষিত খতিয়ানটি খোঁজার জন্য আপনাকে নিম্নলিখিত তথ্যগুলো নির্বাচন করতে বা প্রদান করতে হবে:
বিভাগ নির্বাচন: (যেমন: ঢাকা, চট্টগ্রাম, ইত্যাদি)
জেলা নির্বাচন: (আপনার জমির অবস্থান)
উপজেলা/থানা নির্বাচন:
মৌজা নির্বাচন: (আপনার জমির মৌজা)
খতিয়ানের ধরন নির্বাচন: (যেমন: আরএস, বিএস, ইত্যাদি)
এরপর, আপনি নিম্নলিখিত যেকোনো একটি তথ্য দিয়ে অনুসন্ধান করতে পারবেন:
খতিয়ান নম্বর: নামজারি সম্পন্ন হওয়ার পর যে নতুন খতিয়ান নম্বরটি পেয়েছেন।
দাগ নম্বর (Plot Number): জমির দাগ নম্বর দিয়েও আপনি সংশ্লিষ্ট খতিয়ানটি খুঁজে বের করতে পারবেন।
মালিকের নাম: আপনার নাম (খুব বেশি নির্ভরযোগ্য নয়, তবে চেষ্টা করা যেতে পারে)।
পিতার নাম: মালিকের পিতার নাম।
ধাপ ৪: খতিয়ানের বিস্তারিত দেখুন
সকল তথ্য সঠিকভাবে দেওয়ার পর ‘খোঁজ করুন’ বা ‘অনুসন্ধান’ বাটনে ক্লিক করুন। যদি খতিয়ানটি পাওয়া যায়, তবে স্ক্রিনে খতিয়ানের একটি প্রিভিউ বা বিস্তারিত তথ্য দেখতে পাবেন।
ফলাফল যাচাই:
প্রাপ্ত খতিয়ানে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নিশ্চিত করুন:
মালিকের নাম: আপনার বা যার নামে নামজারি হয়েছে, তার নাম সঠিকভাবে লেখা আছে কি না।
পিতার নাম: সঠিকভাবে উল্লেখ আছে কি না।
ঠিকানা: নির্ভুল আছে কি না।
দাগ নম্বর ও জমির পরিমাণ: নামজারি আবেদনে উল্লিখিত দাগ নম্বর এবং জমির পরিমাণ ঠিক আছে কি না।
যদি আপনার নাম ও অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে থাকে, তবে আপনার নামজারি প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আপনি এই ডিজিটাল খতিয়ানের জন্য আবেদন করে এর সত্যায়িত কপি সংগ্রহ করতে পারবেন।
৩. ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধের মাধ্যমে যাচাই
যদি আপনার নামে নামজারি হয়ে থাকে, তবে আপনি আইনগতভাবে সেই জমির ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ করার যোগ্য। খাজনা পরিশোধের চেষ্টার মাধ্যমেও নামজারি নিশ্চিত করা যায়।
প্রক্রিয়া:
অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর পোর্টালে প্রবেশ: ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য নির্ধারিত সরকারি পোর্টালে যান।
খতিয়ান ও হোল্ডিং নম্বর প্রদান: আপনার নতুন নামজারি খতিয়ান নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট হোল্ডিং নম্বর ব্যবহার করে খাজনা পরিশোধের জন্য আবেদন করুন।
যাচাই: যদি পোর্টালটি আপনার তথ্য গ্রহণ করে এবং খাজনার হিসাব দেখায়, তবে এটি প্রমাণ করে যে সরকারি রেকর্ডে আপনার নামে নামজারি সম্পন্ন হয়েছে। যদি তথ্য না পায়, তবে বুঝতে হবে নামজারি কার্যকর হয়নি বা রেকর্ডে ত্রুটি রয়েছে।
নামজারি চেক করার গুরুত্ব
নামজারি সম্পন্ন হওয়ার পর তা সঠিকভাবে হয়েছে কি না, তা যাচাই করা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
মালিকানা নিশ্চিতকরণ: চেকিং-এর মাধ্যমে আপনি নিশ্চিত হতে পারেন যে সরকারি নথিতে আপনার নাম সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং আপনার মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
আইনি সুরক্ষা: ভুল নামজারি বা কোনো ত্রুটি থাকলে তা দ্রুত সংশোধন করা সম্ভব হয়, যা ভবিষ্যতে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ বা আইনি জটিলতা এড়াতে সাহায্য করে।
কর পরিশোধ: সঠিক নামজারি না হলে আপনি আপনার নামে ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ করতে পারবেন না, যা সম্পত্তির বৈধতার জন্য আবশ্যক।
ভবিষ্যৎ লেনদেন: জমি বিক্রি বা অন্য কোনো লেনদেনের সময় ক্রেতা অবশ্যই আপনার নামজারি খতিয়ান পরীক্ষা করবে। নির্ভুল খতিয়ান লেনদেনকে সহজ করে।
ডিজিটাল পদ্ধতিতে নামজারি চেক করার সুবিধা: সময় ও হয়রানি মুক্তি
ডিজিটাল পদ্ধতিতে নামজারি চেক করার প্রক্রিয়াটিকে সহজ, স্বচ্ছ ও গতিশীল করার জন্য ই-নামজারি (e-Mutation) চালু করেছে। এই ডিজিটাল পদ্ধতিতে নামজারি আবেদন করা এবং এর স্থিতি বা স্ট্যাটাস চেক করার ক্ষেত্রে নাগরিকরা অনেক সুবিধা পাচ্ছেন।
নীচে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নামজারি চেক করার প্রধান সুবিধাগুলো আলোচনা করা হলো:
১. সময় ও শ্রমের সাশ্রয়
অফিসে না গিয়ে সেবা: আবেদনকারীকে তার আবেদনের অবস্থা জানতে বা ডিসিআর সংগ্রহ করতে ভূমি অফিসে বারবার যেতে হয় না। ঘরে বসেই বা নিকটস্থ ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে আবেদনের স্থিতি জানা যায়।
দীর্ঘসূত্রিতা হ্রাস: সনাতন পদ্ধতির দীর্ঘসূত্রিতা, যা সময় সাপেক্ষ ছিল, তা ডিজিটাল পদ্ধতির কারণে বহুলাংশে কমে এসেছে।
২. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি
অনলাইন ট্র্যাকিং: আবেদনের একটি আইডি এবং মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে যে কোনো সময় অনলাইনে (ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে) আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা বা স্ট্যাটাস ট্র্যাকিং করা যায়। এতে প্রক্রিয়াটি কোথায় থেমে আছে, তা সহজেই জানা যায়।
এসএমএস নোটিফিকেশন: আবেদনের প্রতিটি ধাপে আবেদনকারী তার মোবাইলে এসএমএস-এর মাধ্যমে বার্তা পেয়ে যান, যা প্রক্রিয়াটিকে আরও স্বচ্ছ করে তোলে।
পর্যবেক্ষণ ও তদারকি: ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একটি ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে রিয়েল-টাইমে (Real-time) নামজারি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করতে পারেন, যা সেবায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।
৩. হয়রানি ও দুর্নীতি হ্রাস
দালালমুক্ত সেবা: অনলাইনে আবেদন এবং স্ট্যাটাস চেক করার সুবিধা থাকায় ভূমি অফিসে গিয়ে দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে হয়রানির শিকার হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
ফি পরিশোধের স্বচ্ছতা: কোর্ট ফি, নোটিশ জারি ফি, রেকর্ড সংশোধন ফি এবং খতিয়ান ফি সম্পূর্ণভাবে অনলাইনে (যেমন, বিকাশ, নগদ বা কার্ডের মাধ্যমে) পরিশোধ করার সুবিধা থাকায় আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা আসে এবং দুর্নীতির সুযোগ হ্রাস পায়।
৪. আইনি বৈধতা ও নিরাপত্তা
QR কোড যুক্ত ডিসিআর: নামজারি অনুমোদনের পর আবেদনকারী কিউআর কোড (Quick Response Code) যুক্ত অনলাইন ডিসিআর (Duplicate Carbon Receipt) সংগ্রহ করতে পারেন। এই ডিসিআর ম্যানুয়াল ডিসিআর-এর সমপর্যায়ের এবং আইনগতভাবে বৈধ ও সর্বত্র গ্রহণযোগ্য।
নিরাপদ সংরক্ষণ: ভূমি সংক্রান্ত সকল তথ্য ডিজিটালাইজড হওয়ায় তা সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে জালিয়াতি বা তথ্য হারানোর ঝুঁকি কমায়।
৫. যেকোনো স্থান থেকে সুবিধা গ্রহণ
বৈশ্বিক অ্যাক্সেস: পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করে একজন নাগরিক তার নামজারির আবেদন করতে এবং এর অবস্থা জানতে পারেন। এটি বিশেষত প্রবাসী নাগরিকদের জন্য অনেক বড় সুবিধা।
এক কথায়, ডিজিটাল পদ্ধতিতে নামজারি চেক করার সুবিধা ভূমি সেবাকে নাগরিকের হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে, যা সময় সাশ্রয়, হয়রানি মুক্তি, এবং স্বচ্ছ ভূমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
নামজারি চেক করার সময় মনে রাখবেন
ওয়েবসাইট যাচাই: শুধুমাত্র সরকারি এবং নির্ভরযোগ্য পোর্টালেই তথ্য যাচাই করুন। তৃতীয় পক্ষের কোনো ওয়েবসাইটে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
সঠিক তথ্য ব্যবহার: অনুসন্ধান করার সময় আপনার আবেদন আইডি, খতিয়ান নম্বর, ও এনআইডি নম্বর নির্ভুলভাবে ব্যবহার করুন।
সময় লাগা: নামজারি অনুমোদনের পরও সরকারি সিস্টেমে (খতিয়ান পোর্টালে) আপডেট হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তাই অনুমোদনের সঙ্গে সঙ্গেই খতিয়ান না পেলে কিছুদিন অপেক্ষা করুন।
অফিসিয়াল যোগাযোগ: যদি অনলাইনে কোনো ত্রুটি পান বা স্থিতি বুঝতে না পারেন, তবে সরাসরি আপনার সংশ্লিষ্ট উপজেলা/সার্কেল ভূমি অফিস বা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন।
FAQs
নামজারি খতিয়ান দেখতে হলে কোন ওয়েবসাইটে যেতে হবে?
নামজারি বা যেকোনো খতিয়ান দেখতে হলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ‘ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর’ বা সংক্ষেপে ‘ই-পর্চা’ পোর্টালে (eporcha.gov.bd) যেতে হবে।
ই-নামজারি আবেদনের স্থিতি জানতে সাধারণত কী কী তথ্যের প্রয়োজন হয়?
ই-নামজারি আবেদনের স্থিতি বা বর্তমান অবস্থা জানতে সাধারণত আপনার আবেদন আইডি/নামজারি কেস নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর এবং আবেদনের সময় ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর প্রয়োজন হয়।
নামজারি অনুমোদিত হওয়ার কত দিন পর নতুন খতিয়ানে আমার নাম দেখা যেতে পারে?
নামজারি অনুমোদনের পর নতুন খতিয়ান সিস্টেমে আপডেট হতে সাধারণত ৭ থেকে ৩০ দিন সময় লাগতে পারে। অনুমোদনের সঙ্গে সঙ্গেই খতিয়ান পোর্টালে তথ্য না পেলে কিছুদিন অপেক্ষা করার পর আবার চেষ্টা করুন।
আমি যদি নামজারি অনুমোদনের স্ট্যাটাস দেখি, কিন্তু খতিয়ানে আমার নাম না পাই, তাহলে কী করব?
যদি দেখেন আপনার আবেদন ‘অনুমোদিত’ হয়েছে, কিন্তু নতুন খতিয়ান পোর্টালে আপনার নাম দেখা যাচ্ছে না, তবে আপনি আপনার উপজেলা/সার্কেল ভূমি অফিস (AC Land অফিস) বা ভূমি সহকারী কর্মকর্তার (তহসিলদার) কার্যালয়ে যোগাযোগ করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারেন।
নামজারি চূড়ান্ত হওয়ার পর কোন ওয়েবসাইটে গিয়ে খতিয়ান যাচাই করতে হয়?
নামজারি চূড়ান্ত হওয়ার পর নতুন খতিয়ান যাচাই করার জন্য ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের অফিসিয়াল পোর্টাল বা ই-পর্চা পোর্টালে (eporcha.gov.bd) যেতে হবে।
নামজারি খতিয়ান যাচাই করার জন্য কি কোনো ফি দিতে হয়?
না, অনলাইনে নামজারি আবেদনের স্থিতি বা অনুমোদিত খতিয়ানের তথ্য খোঁজা বা যাচাই করার জন্য সাধারণত কোনো ফি দিতে হয় না।
উপসংহার
নামজারি চেক করা আপনার সম্পত্তির মালিকানা নিশ্চিত করার একটি অপরিহার্য ধাপ। ডিজিটালাইজেশনের যুগে, সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করে এই কাজটি করা এখন অনেক সহজ।
উপরের নির্দেশিকা অনুসরণ করে আপনি খুব সহজেই আপনার নামজারির স্থিতি এবং আপনার নামে প্রকাশিত খতিয়ানের নির্ভুলতা যাচাই করতে পারবেন।


