বসত বাড়ির খাজনা কত বা কিভাবে

প্রতি শতকে বসত বাড়ির খাজনা কত টাকা তা নিয়ে আমাদের প্রশ্নের শেষ নেই। তাই চলুন বসত বাড়িতে কত টাকা খাজনা দিতে হবে সেটা বিস্তারিত জেনে নেই।

বাংলাদেশ সরকারের আয়ের অন্যতম উৎস জমি বা ভূমির খাজনা। জমি খাজনা থেকে বাংলাদেশ সরকার বাৎসরিক অনেক টাকা আয় করে থাকে। আবার সরকার এই টাকা দেশের উন্নয়নেই খরচ করে। 

এজন্য আমাদের সবার উচিত দেশের উন্নয়নে সরকার নির্ধারিত খাজনা প্রদান করা। তবে অনেকের কাছে বসত বাড়ির খাজনা কত টাকা তা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই। তাই আজকের পোস্ট শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নিন। 

বসত বাড়ির খাজনা কত

২০২৩-২৪ অর্থবছরে জারি করা বাংলাদেশ সরকারের ভূমি উন্নয়ন কর হার অনুসারে, স্থায়ী বসত বাড়ির খাজনা প্রতি শতকে নির্ধারিত হয়েছে ১০ টাকা। অর্থাৎ, আপনার যদি ৫ শতক বসত বাড়ি থাকে তাহলে ৫০ টাকা খাজনা দিতে হবে। 

আবার বাণিজ্যিকভাবে চা, কফি, রাবার, ফুল-ফলের বাগান, মৎস্য চাষ, চিংড়ি চাষ, হাঁস মুরগির এবং গবাদি পশু পালনে যেকোন ভূমি বা জমির খাজনা শতক প্রতি ২ টাকা। 

আরও পড়ুন — জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে করণীয়

আরও পড়ুন — জমির পরিমাপ শতাংশ হিসাব বের করার সূত্র

বাড়ির খাজনা দেওয়ার নিয়ম 

জমিজমা সংক্রান্ত কাজে বাংলাদেশ এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছে। ভূমি বিষয়ক সকল কাজ এখন অনলাইনে করতে পারবেন। 

ঠিক তেমনি ভাবে অনলাইনে বাড়ির খাজনা দিতে পারবেন। এজন্য ldtax.gov.bd ওয়েবসাইটে ভিজিট করবেন। 

তারপর জমির মালিকের তথ্য দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এবার পরবর্তী ধাপগুলো ফিলাপ করে বিকাশ, নগদ বা রকেটে খাজনার টাকা পরিশোধ করুন। 

এখন আপনি অনলাইনে খাজনা দিতে না পারেন তাহলে ইউনিয়নের ভূমি অফিসে যোগাযোগ করবেন।

2 thoughts on “বসত বাড়ির খাজনা কত বা কিভাবে”

  1. আসসালামু আলাইকুম আমরা যে বাড়িতে থাকি এটা সরকারি লিজ নেওয়া বাড়ি আর এখন ভূমি অফিস থেকে এক ফিট ১৫ টাকা করে চাচ্ছে আমরা এর আগে এত টাকা করে দেই নাই এখন বেশি করে চাচ্ছে এর কোন উপায় আছে থাকলে একটু কাহিনী আমাকে জানাবেন অনেক সমস্যার ভিতরে আছে দয়া করে একটু জানাবেন স্যার

    1. ওয়ালাইকুমুস সালাম
      আপনার কথাটা বুঝতে পারছি — আপনি সরকারি লিজকৃত (lease) জমি বা বাড়িতে থাকেন, এবং ভূমি অফিস এখন আগের তুলনায় প্রতি ফিটে বেশি হারে টাকা (১৫ টাকা/ফিট) দাবি করছে, যেখানে আগে কম দিতেন। এখন আপনি জানতে চাইছেন, এটা আইনগতভাবে চ্যালেঞ্জ করা যায় কিনা বা কমানোর কোনো উপায় আছে কিনা।
      চলুন ধাপে ধাপে দেখি

      ১️⃣ প্রথমে বুঝতে হবে: আপনার “লিজ” কেমন

      সরকারি লিজের কয়েক ধরন আছে:

      আবাসিক লিজ (Residential lease) — সাধারণত ৯৯ বছর মেয়াদি হয়

      বাণিজ্যিক লিজ (Commercial) — সাধারণত ৩০ বছর বা ৯৯ বছরের হয়

      স্বল্পমেয়াদি লিজ (Temporary) — বার্ষিক নবায়নযোগ্য

      আপনার লিজ চুক্তিপত্র (lease deed)-এ লেখা থাকবে:

      কত টাকা প্রতি ফিট বা প্রতি বছর ভাড়া/খাজনা দিতে হবে,

      কখন হার পুনর্নির্ধারণ (re-fixation) করা যেতে পারে,

      কোন কর্তৃপক্ষ এই হার নির্ধারণ করবে।

      প্রথমে লিজ চুক্তিপত্র বা নবায়নের কপি দেখে নিন।

      ⚖️ ২️⃣ সরকার কেন হার বাড়াতে পারে

      সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী (ভূমি ব্যবস্থাপনা ম্যানুয়াল, ১৯৯০ এবং পরবর্তী সংশোধন অনুযায়ী),
      লিজ হার প্রতি নির্দিষ্ট বছর পর পুনঃনির্ধারণ (re-assessment) করা যায়, বিশেষ করে:

      বাজারমূল্য পরিবর্তন হলে,

      সরকার নতুন রেট ফিক্স করলে (যেমন প্রতি বর্গফুট/বর্গগজে নির্দিষ্ট হার)।

      এটা জেলা প্রশাসকের (DC office) মাধ্যমে করা হয়, সাধারণত ল্যান্ড অফিস শুধু আদায়ের দায়িত্বে থাকে।

      ৩️⃣ আপনি কী করতে পারেন (বাস্তবিক উপায়)
      (১) রেট বৃদ্ধির সরকারি আদেশ চান

      ল্যান্ড অফিসে (তহশিল অফিসে) গিয়ে লিখিতভাবে বলুন:

      “এক ফিটে ১৫ টাকা হার নির্ধারণের সরকারি আদেশ (GO) বা প্রজ্ঞাপন দেখাতে হবে।”

      তারা যদি সরকারি প্রজ্ঞাপন (G.O. number, তারিখসহ) না দেখাতে পারে, তাহলে আপনি লিখিত অভিযোগ করতে পারেন:

      উপজেলা নির্বাহী অফিসার (UNO)

      জেলা প্রশাসক (DC)

      বা সরাসরি ভূমি মন্ত্রণালয়ে অনলাইন অভিযোগ
      ভূমি সেবা পোর্টাল: https://land.gov.bd/complain

      (২) লিখিত আপিল দিন (Appeal for rate review)

      আপনি “হার কমানোর আবেদন” করতে পারেন, যুক্তি দিয়ে যেমন:

      আগে এত হার নেওয়া হয়নি,

      এলাকায় বাজারমূল্য এত বাড়েনি,

      লিজের মেয়াদ এখনো বাকি আছে,

      এই আবেদনটি উপজেলা ভূমি অফিস (AC Land) এর মাধ্যমে জমা দিয়ে DC অফিসে ফরওয়ার্ড করতে পারেন।

      (৩) পুরনো রশিদ ও নথি সংরক্ষণ করুন

      আগের যে হারে টাকা দিতেন — সেই রশিদ/চালান (chalan) সংরক্ষণ করুন।
      এগুলোই প্রমাণ হবে যে আপনি আগে কত দিতেন এবং কেন বর্তমান হার অস্বাভাবিক।

      ⚠️ ৪️⃣ সাবধানতা

      কোনো অফিসের কর্মচারী মৌখিকভাবে “হার বেড়েছে” বললে, লিখিত প্রমাণ ছাড়া টাকা দেবেন না।

      টাকা দেওয়ার আগে সবসময় সরকারি চালান (Treasury Challan) এর মাধ্যমে জমা দিন, হাতে হাতে নয়।

      ৫️⃣ সহায়তার জন্য যোগাযোগ করতে পারেন:

      ভূমি হেল্পলাইন: ১৬১২২

      অনলাইন অভিযোগ: https://land.gov.bd/complain

      DC অফিসের ভূমি শাখা (Land Section) – সেখানে “Rate Re-fixation Order” চেয়ে দেখা যেতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top